নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন;
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি এলাকায় একই পরিবারের দুই ভাই আব্দুল হাকিম ও নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিশোর ও তরুণদের সমুদ্রপথে পাচারের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন দুই বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম ও নুরুল কবির শাপলাপুরের মিঠাছড়ি এলাকার মোহাম্মদ মাহসানের ছেলে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি, গত ২৭ অক্টোবর মালয়েশিয়ার থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী পার্লিস রাজ্যের সুঙ্গাই পাদাং এলাকায় অবৈধ অভিবাসীবাহী একটি নৌকাকে ধাওয়া করার সময় মালয়েশিয়া কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই নৌকায় আব্দুল হাকিমের মাধ্যমে পাঠানো শাপলাপুরের তিন যুবক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তাঁদের মধ্যে জামিরছড়ির বাইট্টা সেলিমের ছেলে রয়েছেন। অপর দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁরা বর্তমানে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল হাকিম ও নুরুল কবির আগে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতেন। সে সময় থেকেই তাঁরা বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের পাচারের সঙ্গে জড়িত। শাপলাপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে এই ফাঁদে ফেলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব তরুণকে প্রথমে টেকনাফ ও ইনানী উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। পরে সেখানে আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগও করেছেন কয়েকটি পরিবারের সদস্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য বলেন, “আব্দুল হাকিম মালয়েশিয়ায় থাকা অবস্থায় তাঁর বড় ভাই নুরুল কবির আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরে তাকে থাইল্যান্ডে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে তাদের ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।”
একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন ইউনিয়নের তরুণদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সমুদ্রপথে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এসব অর্থ লেনদেন বিকাশের মাধ্যমে করা হয় বলেও জানা গেছে।
মালয়েশিয়ায় পাচারের শিকার হওয়া এক ব্যক্তি জানান, শাপলাপুরের ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোর ও তরুণদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়। পরে থাইল্যান্ডে আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনায় একাধিক পরিবার অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ যুবকদের সন্ধান, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান বলেন, “মানবপাচার প্রতিরোধে পুলিশ সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে এবং এলাকাভিত্তিক মানবপাচারকারীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম ও নুরুল কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
